বার্মায় সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে

ফাইল ছবি : ইয়াঙ্গুনে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে আসিয়ান পতাকা পুড়ানো হচ্ছে

গত ৪ জানুয়ারি বার্মার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন একটি সমর্থনসূচক বিবৃতি প্রচার করেছেন। এই বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বার্মার জনগণ গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইন শাসনের প্রতিষ্ঠায় যে সর্বব্যাপী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি”। তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সর্বদা বার্মার  জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা সরকারের নিদারুণ নিপীড়ন সহ্য করেও ভালো দিনের প্রত্যাশায় লড়ে যাচ্ছেন”।

গত ৪ জানুয়ারি বার্মার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন একটি সমর্থনসূচক বিবৃতি প্রচার করেছেন। এই বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বার্মার জনগণ গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইন শাসনের প্রতিষ্ঠায় যে সর্বব্যাপী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি”। তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সর্বদা বার্মার জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা সরকারের নিদারুণ নিপীড়ন সহ্য করেও ভালো দিনের প্রত্যাশায় লড়ে যাচ্ছেন”।


গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে সহিংসতা বেড়েছে। সামরিক বাহিনী দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সাং সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এবং তার রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সদস্যদের হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে। এনএলডি ২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছিল। সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সহিংসতায় নিহত হয়েছেন আরও ১৩০০ জন , যাদের মধ্যে অনেক শিশুও ছিল।

গত ২৪ ডিসেম্বরে জান্তা সরকারের আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী কায়াহ প্রদেশে ভয়াবহ সহিংসতা চালায়। সামরিক বাহিনী আন্তর্জাতিক দাতা প্রতিষ্ঠানের এবং নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৫ জনকে মর্মান্তিকভাবে পুড়িয়ে মারে। এর মধ্যে দুজন সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মী। বড়দিনের দিন দগ্ধ মৃতদেহগুলোর সন্ধান মেলে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে এহেন নারকীয়তা চালানোর জন্যে বার্মার সামরিক সরকারকে “জবাবদিহি করার” দাবি জানায়।

দুঃখজনকভাবে, সামরিক সরকার এখনো বার্মায় সহিংসতা চালু রেখেছে। জান্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি ছুঁড়েছে, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, অপহরণ এবং শিশু হত্যা করেছে, আটককৃতদের ওপর শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন করেছে, এমনকি গ্রামের পর গ্রাম নির্বিচারে ধ্বংস করেছে।

কায়াহ প্রদেশে হামলার ঘটনার পর বড়দিনের পর আরেক বিবৃতিতে অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, “নিরপরাধ সাধারণ জনতা এবং মানবাধিকার কর্মীদের ওপর হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বার্মার জনগণের ওপর সামরিক বাহিনীর হামলার জন্যে অবশ্যই সরকারি বাহিনীকেই দায় নিতে হবে”।


ব্লিংকেন আরও বলেন, গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বার্মার সামরিক নেতাদের ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ ছাড়া এসব নেতাদের আর্থিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ব্লিংকেন এ সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্মার সহিংসতা নিরসনে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান।


বার্মার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে ব্লিংকেন সামরিক বাহিনীকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধে, বন্দীদের মুক্তি দিতে এবং প্রকৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান।

[এই সম্পাদকীয়তে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নীতির প্রতিফলন রয়েছে]