Accessibility links

Breaking News

লিঙ্গভিত্তিক অনলাইন হয়রানি বন্ধে ক্রমবর্ধমান একটি জোট


Tযুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে লিঙ্গ সমতার জন্য সহায়তা প্রদানের উদ্যেগ নিয়েছে

সকল জনগণের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোন গণতন্ত্রই পরিপূর্ণ নয়। তাই, যেসকল রাষ্ট্র তাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে চায়, সেসকল দেশের সকলের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা উচিৎ - এবং এর মধ্যে অবশ্যই নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার চেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। বর্তমানে যেহেতু অনেক ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণের জন্য ইন্টারনেট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাই যারা লিঙ্গসমতার জন্য কাজ করছেন তাদেরকে অবশ্যই অনলাইনে নারী ও মেয়েদের তিরস্কার ও হয়রানির বিষয়টি মোকাবেলা করতে হবে।

অনলাইনে লিঙ্গভিত্তিক হয়রানির অর্থ হল, মানুষের বিরুদ্ধে, যা কিনা অনেক ক্ষেত্রেই নারী ও এলজিবিটিকিউআই+ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে, তাদের লিঙ্গের উপর নির্ভর করে প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলক অপব্যবহার। নারী ও মেয়েদের পূর্ণ সম্ভাবনা উপলব্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি অনেক সময়েই একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

.এর মধ্যে অনেক ধরণের কর্মকাণ্ডই অন্তর্ভুক্ত। যেমন, নারীবিদ্বেষী বা অযাচিত যৌন মন্তব্য, হুমকি, সাইবার মাধ্যমে যৌনাঙ্গ প্রদর্শন, অসদুদ্দেশ্যে অন্তরঙ্গ বার্তা বা ছবি ছড়িয়ে দেওয়া, এমনকি সাইবার মাধ্যম ব্যবহার করে অনুসরণ করা, যা কিনা সামাজিক মাধ্যম বা প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারের ফলে আরও বৃদ্ধি পায় বা সহজ হয়। এমন কর্মকাণ্ডগুলো নারী ও মেয়েদের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ, এবং কন্ঠরোধে ব্যবহৃত হয়, জনজীবনে তাদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে বা হ্রাস করতে ব্যবহৃত হয়। প্রধানত নারী রাজনীতিবিদ, সক্রিয়কর্মী, এবং সংবাদকর্মীরা এর শিকার হয়ে থাকেন।

অনলাইনে হযরানি ও অপব্যবহার ইন্টারনেট যুগের একদম শুরু থেকেই আরম্ভ হয়েছে। প্রগাঢ় লিঙ্গ বৈষম্যই সেগুলোর উৎস এবং সময়ের সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কিনা নতুন ও বিকাশমান প্রযুক্তির ফলে আরও প্রসারিত হয়েছে। আর এগুলো নারীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক গুরুতর হুমকি কারণ এগুলোর শিকার ব্যক্তিদের উপর এর গুরুতর প্রভাব পড়ে। রাজনৈতিক, জনজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে নারী ও মেয়েদের পূর্ণ ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এগুলো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে্ এবং এর ফলে তারা নিজেই নিজেদের আড়াল করে, এমনকি এর ফলে তারা পুরোপুরি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নও হয়ে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত সামিট অফ দ্য আমেরিকাস-এ, কানাডা ও চিলি’র সরকার অঙ্গীকার করে যে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন, কেনিয়া, এবং ব্রিটেনের সাথে তারাও গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর অ্যাকশন অন জেন্ডার-বেজড অনলাইন হ্যারাসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাবিউজ এর সদস্য হিসেবে যোগ দিবে।

২০২৩ সালের শুরুর দিকের জন্য নির্ধারিত দ্বিতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতিতে, প্রথম সামিট ফর ডেমোক্রেসিতে এই সহযোগীতার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এমন ঘোষণা এই বিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দেয় যে, প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার প্রতিক্রিয়া আরও উন্নত করতে ও তা প্রতিরোধে কার্যকরী কৌশলগুলোকে উন্নীত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হোয়াইট হাউজের জেন্ডার পলিসি কাউন্সিলের পরিচালক , জেনিফার ক্লাইন বলেন, “মতবাদের ভিন্নতা বা নারীদের কন্ঠ, দৃষ্টিকোণ, এবং নেতৃত্ব হারানোর ক্ষতি আমরা পোষাতে পারব না। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন কিনা গণতন্ত্র আর নিশ্চিত নয়, এবং ইউক্রেনের সাহসী নারী ও পুরুষরা তাদের গণতন্ত্র রক্ষার চেষ্টা করছেন।”


[এই সম্পাদকীয়তে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে]

XS
SM
MD
LG