Accessibility links

Breaking News

জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যুক্তরাষ্ট্র সংকল্পবদ্ধ


ফাইল ছবি, জাতিগোষ্ঠীগত মুসলিম সংখ্যালঘুদের মনে করা হয় এখানে আটকে রাখা হয় , উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় চীনের জিনঝিয়াং অঞ্চলে . মে ৩০, ২০১৯ W

জোরপূর্বক শ্রমের অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং এমন শ্রম ব্যবহার করে তৈরি করা পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ রোধ করতে বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন সংকল্পবদ্ধ।

সেই উদ্দেশ্যে উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট (উইঘুর জোরপূর্বক শ্রম রোধ আইন) বা ইউএফএলপিএ ২১ জুন কার্যকর করা হয়। এই আইন শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল (শিনজিয়াং) ও পিপল’স রিপাবলিক অফ চায়নার (পিআরসি) আরও কিছু এলাকা থেকে কোন পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, যদি না আমদানিকারক এটা প্রমাণ করতে পারে যে পণ্যগুলো জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে তৈরি করা হয়নি।

শিনজিয়াং-এ পিআরসি গণহত্যা ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করছে। তারা ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের জন্য বন্দি শিবির তৈরি করেছে, যাদের বেশিরভাগই মুসলিম উইঘুর এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্য। বন্দি শিবিরগুলোতে জোরপূর্বক শ্রম, ধর্ষণ, নির্যাতন ও জোরপূর্বক মতবাদ বদলানো অব্যাহত রয়েছে। শিনজিয়াং-এ শিবিরের বাইরেও জোরপূর্বক শ্রম অব্যাহত রয়েছে। শিনজিয়াং এর কিছু কিছু উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্যদের পিআরসি’র বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি ইউএফএলপিএ’র প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। তারা এই অনুমানের ভিত্তিতে কাজ করবে যে, যে কোন পণ্য, দ্রব্য, সামগ্রী, বা মালামাল যদি সম্পূর্ণ বা আংশিকরূপে শিনজিয়াং এ খনি থেকে উত্তোলন করা হয়, তৈরি করা হয়, বা উৎপাদন করা হয়ে থাকে তাহলে সেগুলো জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে করা হয়েছে এবং সেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা থেকে বাধা দেওয়া হবে, যদি না আমদানিকারক সিবিপি-কে এই মর্মে পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে পারে যে তেমনটি করা হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন উল্লেখ করেন যে, উভয়দলের প্রবল সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আইনটি পাশ হয়।

তিনি বলেন, “শিনজিয়াং-এ জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে এবং মানবাধিকারের এমন জঘন্য লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদারে, কংগ্রেস ও আমাদের আন্তঃসংস্থা সহযোগীদের সাথে কাজ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “শিনজিয়াং-এ জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করতে আমরা জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, যার মধ্যে ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কাই এর অধীনে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা, রফতানি নিয়ন্ত্রণ, উইথহোল্ড রিলিজ অর্ডার ও আমদানি বিধিনিষেধ রয়েছে … আমাদের আন্তঃসংস্থা সহযোগীদের সাথে মিলে আমরা কোম্পানীগুলোর সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখব, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের এমন আইনী বাধ্যবাধকতার কথা মনে করিয়ে দিতে, যা জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে তৈরি পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ করে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন ঘোষণা দেন, “আমরা আমাদের মিত্র ও সহযোগীদের সমবেত করছি যাতে করে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা জোরপূর্বক শ্রম থেকে মুক্ত হয়, শিনজিয়াং-এ সংঘটিত অত্যাচারগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলা হয়, এবং জোরপূর্বক শ্রম সহ অত্যাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অবিলম্বে অবসান করতে পিআরসি’র সরকারের প্রতি জানানো আমাদের আহ্বানে তারাও যুক্ত হয়।


[এই সম্পাদকীয়তে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে]

XS
SM
MD
LG