Accessibility links

Breaking News

ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষজনের বিরুদ্ধে রুশ আক্রমণের প্রতি কঠোর নিন্দা জানাল যুক্তরাষ্ট্র


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ( ফাইল ছবি)

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ভ্লাদিমির পুতিনের অপ্ররোচিত যুদ্ধটির শুরু থেকেই, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষজনকে হত্যা করেছে এবং বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। রুশ সামরিক বাহিনীর গোলাবর্ষণ করা অনেকগুলো স্থাপনাই পরিষ্কারভাবে বোঝা যেত যে সেগুলো বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়। এমন স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়, হাসপাতাল, বিপণীকেন্দ্র ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন।

ক্রাইমিয়া উপদ্বীপের সাথে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলকে সংযোগকারী সেতুটি, সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ সরবরাহ করা ছাড়াও সাধারণ গাড়ি পারাপার ও রেল পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হত। অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আক্রমণে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ৯ অক্টোবর থেকে আরম্ভ করে, রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষজনকে সন্ত্রস্ত করার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। ভ্লাদিমির পুতিনের বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত বেশ কয়েকটি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধটি আরম্ভ হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল বেসামরিক মানুষজনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।

এক লিখিত বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, “ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ক্রেমলিনের আজকের আক্রমণ আবারও রাশিয়ার নির্মম যুদ্ধটির ঝুঁকিগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। রুশ বোমাগুলো কিয়েভে শিশুদের খেলার মাঠে ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পার্কগুলোতে আঘাত করছে; ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের সড়কগুলোতে আঘাত হেনেছে এবং উষ্ণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ইউক্রেন জুড়ে এমন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে যেগুলোর কোন সামরিক উদ্দেশ্য নেই।”

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, “রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে … ইউক্রেন জুড়ে, যার মধ্যে কিয়েভও রয়েছে। এই হামলাগুলো বেসামরিক মানুষজনকে হত্যা ও আহত করেছে এবং এমন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে যেগুলোর কোন সামরিক উদ্দেশ্য নেই। এই সব হামলা আবারও ইউক্রেনের জনগণের বিরুদ্ধে মিঃ পুতিনের অবৈধ যুদ্ধটির নির্মমতা প্রদর্শন করেছে।”

“এই আক্রমণগুলো, যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইউক্রেনের মানুষের পাশে থাকার আমাদের অঙ্গীকারকেই আরও জোরালো করে। রাশিয়ার আগ্রাসনের জন্য আমাদের মিত্র ও সহযোগীদের পাশাপাশি, আমরাও রাশিয়ার উপর আর্থিক ক্ষতি আরোপ করা, পুতিন ও রাশিয়াকে তাদের নৃশংসতা ও যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহি করানো, এবং নিজেদের দেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে ইউক্রেনের বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহায়তা তাদেরকে প্রদান করা অব্যাহত রাখব।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন বলেন, “রাশিয়ার আক্রমণগুলো আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধটি একটি প্রগাঢ় নৈতিক বিষয় উত্থাপন করেছে। বিশ্বের অন্য সকল দেশের মতই, ইউক্রেনেরও নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তাদের সীমান্তের অভ্যন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে।”

“এই যুদ্ধে একটি দেশই আগ্রাসী: রাশিয়া। একটিই দেশ রয়েছে যারা ইউক্রেনের ভূখণ্ড অধিভুক্ত করার প্রচেষ্টা ও বেসামরিক মানুষের উপর বারবার আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধ প্রবলতর করে তুলছে: রাশিয়া। একজন ব্যক্তিই রয়েছেন যিনি এখনই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন এবং রুশ বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে পারেন: ভ্লাদিমির পুতিন।”



[এই সম্পাদকীয়তে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে]

XS
SM
MD
LG