Accessibility links

Breaking News

ইরানের সঙ্গে কূটনীতি এখনও সম্ভব


অ্যান্টনি ব্লিংকেন

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সম্প্রতি ভিয়েনায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, “ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে, চীন ও রাশিয়ার সাথে আলোচনায় জানিয়ে দিয়েছে যে, আমরা জেসিপিওএর শর্তে ফিরে যেতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত আছি, যদি ইরানও একইভাবে রাজি থাকে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ইরানিরা তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি”।   

নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন পরস্পরের মধ্যে বিবাদমান মধ্যপ্রাচ্যের দুটি দেশ ইরান ও সৌদি আরব, সম্প্রতি সরাসরি আলোচনায় বসেছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাউদ বলেছেন, “আমরা আশা করছি, এই আলোচনার উদ্যোগ উভয় পক্ষের মধ্যে সমস্যা সমাধানের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ভিত্তি প্রদান করবে এবং সেটা উপলব্ধি করতে আমরা প্রয়াস চালাবো ও কাজ করবো”।

যুক্তরাষ্ট্র এ খবরকে সাধুবাদ জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্যুরো অফ নেয়ার ইস্টার্ন অ্যাফেয়ার্সের ইরান ও ইরাক বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনিফার গ্যাভিটো বলেছেন, “আমরা যে কোনো সরাসরি আলোচনাকে স্বাগত জানাই, যা ওই অঞ্চলকে বৃহত্তর শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবে”।

তা ছাড়া শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে, যুক্তরাষ্ট্র ববাবরই আশা প্রকাশ করে আসছে যে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন বা JCPOA নামে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি মানার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের জবাবে তেহরান, যুক্তরাষ্ট্র ও P5+1 দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। চলতি বছর ভিয়েনায় এ নিয়ে যে ছয় দফা আলোচনা হয়েছিল, সেই আলোচনা জুন থেকে স্থবির হয়ে পড়ে এবং ইরান এখনো পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরু করার একটি সময় নির্ধারণ করতে সম্মত হয়নি।

এরই মধ্যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞাগুলি বহাল রয়েছে এবং ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি জেসিপিওএ সীমার বাইরে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সম্প্রতি ভিয়েনায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, “ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে, চীন ও রাশিয়ার সাথে আলোচনায় জানিয়ে দিয়েছে যে, আমরা জেসিপিওএর শর্তে ফিরে যেতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত আছি, যদি ইরানও একইভাবে রাজি থাকে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ইরানিরা তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি”।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন বলেন, “বল এখন তাদের কোর্টে, তবে তা দীর্ঘ সময়ের জন্যে নয়। আমরা যে সমস্যাটির মুখোমুখি হচ্ছি… তা হল ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে জেসিপিওএ লঙ্ঘন করে যা করছে , অর্থাৎ আরও অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজ চালু করা, ২০ কিংবা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ করা, এসবের কারণে একটা সময় জেসিপিওএ-এর চুক্তির শর্তে ফিরে আসা এবং চুক্তির সুফলগুলো পুনরুদ্ধার করার জন্য যথেষ্ট সময় হয়তো থাকবে না”।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন বলেন, ইরান কখনোই যেনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সক্ষম না হয় তা নিশ্চিত করার জন্যে কূটনীতি হলো সর্বোত্তম পথ। তিনি বলেন, “তবে সে পথ সীমিত, এবং তা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। “আমাদের আশা এবং প্রত্যাশা, এতে আমাদের অংশীদার দেশগুলির সকলেই ইরানকে আলোচনায় দ্রুত ফিরে আসতে বোঝাবে এবং দেখা যাক, আমরা জেসিপিওএতে ফিরে যেতে পারি কিনা”।

XS
SM
MD
LG